ক্যাপাসিটর(Capacitor) All Details in Bengali

নমস্কার বন্ধুরা আজকে আমরা ক্যাপাসিটর(Capacitor) নিয়ে আলোচনা করবো

ক্যাপাসিটর(Capacitor) কী বা কাকে বলে:

ক্যাপাসিটর মূলত বৈদ্যুতিক চার্জ সঞ্চয়ক যন্ত্র বিশেষ বা বৈদ্যূতিক প্যসিভ ডিভাইস যা চার্জ সংরক্ষণ করতে পারে।এর বাংলা অর্থ “ধারক” অর্থাৎ যে বৈদ্যুতিক চার্জ ধারণ করে। এবং দুটি পরিবাহী প্লেটের মাঝে অপরিবাহী পদার্থ (Dielectric) রেখে প্লেট দ্বয়কে পৃথক করলে যে ডিভাইস তৈরী হয় তাকে ক্যাপাসিটর বলে।

একে অনেকটা রিচার্জেবল ব্যাটারির সাথে তুলনা করা যায় । পার্থক্য শুধু এটাই যে, এর চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক কম । হতে পারে সেইটা এক সেকেন্ডের হাজারভাগের অনেক কম সময় । সার্কিটে ক্যাপাসিটর সোর্স থেকে বৈদ্যুতিক এনার্জি বা চার্জ সঞ্চয় করে থাকে।এর আর একটি অতিপরিচিত নাম হলো কনডেনসার।

ক্যাপাসিটরের(Capacitor) গঠন :

দুটি ইলেকট্রোড বা কন্ডাকটরের সমন্বয়ে যা ইনসুলেটর বা ডাই ইলেকট্রিক দিয়ে আলাদা করা থাকে। সহজ ভাষায় বলা যায় দুইটি পরিবাহী পাতের মাঝে একটি ডাই-ইলেকট্রিক অপরিবাহী পদার্থ নিয়ে ক্যাপাসিটর গঠিত। প্রয়োজন মত পেপার, প্লাস্টিক, মাইকা, সিরামিক, কাচ, ভ্যাকুয়াম বা শুধুই বাতাস দিয়ে ডাই ইলেকট্রিক তৈরি করা হয়।

ক্যাপাসিটরের (Capacitor)প্রকারভেদ:

ক্যাপাসিটর প্রধানত ২ প্রকারঃ

১। ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর (Variable Capacitor)(পরিবর্তশীল)
২। ফিক্সড ক্যাপাসিটর((Fixed Capacitor) (স্থির ক্যাপাসিটর)

ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর(Variable Capacitor) :

ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স পরিবর্তন করা যায়। এগুলো সাধারণত এক বা একাধিক মুভিং প্লেটের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়। প্লেটের অবস্থান পরিবর্তন করে ক্যাপাসিট্যান্স পরিবর্তন করা যায়। এই ক্যাপাসিটর রেডিও টিউনে ব্যাবহার করা হয়।ভ্যারিয়েবল বা পরিবর্তশীল ক্যাপাসিটর তিন ধরনের হয়ে থাকে যেমন:

১। ট্রিমার ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর।(Trimmer Variable Capacitor)
২। প্যাডার ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর।(Pedder Variable Capacitor)
৩। গ্যাং ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর।(Gang Variable Capacitor)

ফিক্সড ক্যাপাসিটর(Fixed Capacitor) (স্থির ক্যাপাসিটর)

এই প্রকার ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স স্থির থাকে পরিবর্তন করা যায় না । ডাই-ইলেক্ট্রিক ক্যাপাসিটর হিসেবে ফিক্সড ক্যাপাসিটর বা স্থির ক্যাপাসিটর বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন:-

১। ওয়েল টাইপ ক্যাপাসিটর। ‎(Oil Type Capacitor)
২। ইলেক্ট্রোলাইটিক টাইপ ক্যাপাসিটর।‎(Electrolyte Type Capacitor) ‎
৩। পেপার টাইপ ক্যাপাসিটর।‎(Paper Type Capacitor)
‎৪। মাইকা টাইপ ক্যাপাসিটর ‎।‎ (Maiko Type Capacitor)
৫। সিরামিক টাইপ ক্যাপাসিটর। ‎(Ceramic Type Capacitor)
৬। এয়ার টাইপ ক্যাপাসিটর।‎(Air Type Capacitor)
৭। প্লাস্টিক ফিল্ম ক্যাপাসিটর। ‎‎(Plastic Flim Capacitor)
৮। গ্লাস টাইপ ক্যাপাসিটর।‎(Glass Type Capacitor)
৯। পলি কার্বনেট ক্যাপাসিটর।‎(Poly carbonate Capacitor)
১০। পলিয়েস্টার ক্যাপাসিটর।‎(Polyester Capacitor)
১১। স্ট্রিলোফ্লেক্স ক্যাপাসিটর।‎(Steelflex Capacitor)
১২। ট্যানটেলাম ক্যাপাসিটর।(Tantalum Capacitor)

পোলারিটি অনুসারে ক্যাপাসিটর কে আবার ২ ভাগ এ ভাগ করা হয়েছে:

১. পোলারাইজড ক্যাপাসিটর(Polar Capacitors)।
২. নন-পোলারাইজড ক্যাপাসিটর(Non-Polar Capacitors)।

Capacitors

পোলারাইজড ফিক্সড ক্যাপাসিটর :পোলারাইজড ক্যাপাসিটর সার্কিটে নেগেটিভ এবং পজেটিভ ডিরেকশন অনুসারে সংযোগ করতে হয়।

নন পোলারাইজড ফিক্সড ক্যাপাসিটর :নন পোলারাইজড ক্যাপাসিটরের কোন পোলারিটি নেই, তাই সার্কিটে এটি পজেটিভ বা নেগেটিভ যেকোন ডিরেকশনে কানেক্ট করা যায়।

ক্যাপাসিটর(Capacitor) একক :

  • ক্যাপাসিটরে ক্ষমতাকে ফ্যারাড এ প্রকাশ করা হয় । ফ্যারাডকে ইংরেজী F অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।ফ্যারাড যেহেতু অনেক বড় একটি একক, তাই একে প্রয়োজনমত অনেক সময় মাইক্রো- ফ্যারাড(uF), পিকো-ফ্যারাড(PF) এবং ন্যানো-ফ্যারাড(nF) প্রকাশ করা হয়ে থাকে ।

ক্যাপাসিটরের ব্যাবহার:

১। ফ্লোরোসেন্ট বাতির পাওয়ার ফ্যাক্টর উন্নতি করার জন্য প্যারালালে সংযোগ দেওয়া হয়। ‎
২। দুইটি বাতির একটিতে সিরিজে ক্যাপাসিটর সংযোগ করা হয়। স্টোবসকোপিক ইফেক্ট মিনিমাইজ করার জন্য ব্যাবহার করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ‎
৩। সিংগেল ফেজ মোটরের স্টারটিং টর্ক বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়। ‎
৪। পাওয়ার ফ্যাক্টর উন্নতি করার জন্য ব্যবহার করা হয়। ‎
৫। স্পার্কিং কমানোর জন্য পেট্রোল গাড়িতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ‎
৬। এসি কারেন্ট ফিল্টারিং করার জন্য ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হয়।
‎৭। অল্টারনেটিং কারেন্ট সার্কিটে, মোটর ফ্যান, টিউব লাইট ও ইন্সট্রুমেন্টে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ‎
৮। ডাইরেক্ট কারেন্ট রেডিও, টিভি, ভিসিপি, ভিসিআর, কম্পিউটার, বাস, ট্রাক ও অটোমোটিভ সার্কিটে ব্যাবহার হয়ে থাকে। ‎
৯। এ.সি ও ডি.সি কন্ট্রোল সার্কিটে ব্যবহার হয়ে থাকে।
‎১০। বিদ্যুৎ সঞ্চয় করে রাখে। ‎
১১। ডিসি একমুখী প্রবাহ বন্ধ করে এবং এসি প্রবাহ প্রবাহিত করে।
১২। পাওয়ার স্টেশনে পাওয়ার ফ্যাকটর কানেকশনে ব্যবহৃত হয়।
১৩। যে কোন ইলেকট্রনিক সার্কিটে ট্রানজিয়েন্ট ফেনোমেনা প্রতিরোধে।
১৪। পালসেটিং ডিসিকে ফিল্টারিং করে রিপল কমানের জন্য ব্যবহৃত হয়।
১৫। হাই-পাস, লো-পাস ফিল্টার ইত্যাদি সার্কিটে।
১৬। ক্লাম্পার সার্কিটে।
১৭। RC কাপলিং সার্কিটে।
১৮। টাইম ডিলে সার্কিটে ব্যবহার করা যায়।
১৯। বেতার যন্ত্রের টিউন্ড সার্কিটে (LC Tank circuit)।
২০। সিঙ্গেল ফেজ ইন্ডকশন মোটরে (বাড়ীতে ব্যবহৃত সিলিং ফ্যান) দুই কয়েলের মধ্যে ফেজ ডিফারেন্স সৃষ্টিতে।
২১। চার্জ স্টোরিং এর ক্ষেত্রে।
২২। DC কারেন্ট ব্লকিং এর মাধ্যমে AC কারেন্ট পরিবহনের ক্ষেত্রে।
২৩। Power factor এর মান বাড়াতে।
২৪। Single phase motor গুলোকে চালু করতে।
২৫। Current rectify করার সময় smooth output দিতে পারে (Current Filter করতে সক্ষম)
২৬। By-pass capacitor হিসেবে ব্যাবহার করা যায়। যার মাধ্যমে সার্কিটের নির্দিষ্ট কোনো স্থানে সময়মত current প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ক্যাপাসিটরের কাজ:

১। ক্যাপাসিটর একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, যা সার্কিটে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের আধার হিসেবে কাজ করে।

২। ক্ষেত্রবিশেষে এটা উচ্চ ও নিম্ন তরঙ্গের জন্য ছাকনি (filter)হিসেবে কাজ করে। পূর্বে একে কনডেনসার বলে অভিহিত করা হত। কারণ, প্রথমে বিজ্ঞানীগণ ভেবেছিলেন, ধারকে তড়িৎ একেবারে জমাট বেঁধে যায়। কিন্তু পরে জানা যায় যে এখানে তড়িৎ জমে যায় না; শুধু আধান সঞ্চিত হয় এবং প্রয়োজনানুযায়ী ব্যবহার করা যায়।

৩। ক্যাপাসিটরের কাজ হল বৈদ্যুতিক চার্জ ধরে রাখা। রিচার্জেবল ব্যাটারি যেমন চার্জ ধরে রাখে, ক্যাপাসিটর এরও একই রকম ক্ষমতা আছে, তবে খুব স্বল্প পরিসরে। “ক্যাপাসিটর মুলত চার্জ ধারন করে এবং ডিসি কে বাধা দেয় আর এসি কে যেতে দেয়।

৪। ক্যাপাসিটরের কাজ অনেকটা ব্যাটারীর মতই কিন্তু এর সুবিধা হলো এটি যে কোন পোলারিটিতেই চার্জ ধারন করে রাখতে পারে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ডিসচার্জ হতে পারে । ক্যাপাসিটর অনেক রকম হতে পারে , তবে মুল গঠন কিন্তু একই , দুটি চার্জবাহি প্লেটকে খুবই স্ব্ল্প দূরত্বে ইলেক্ট্রোলাইটে ডুবানো অবস্থায় পরঃপর হতে পৃথক রাখা হয় । এছারাও সিরামিক ক্যাপাসিটর এর গঠন একটু ভিন্ন , ছবিতে বিভিন্য ধরনের ক্যাপাসিটরের আকার আকৃ্তি দেখানো হলো , ক্যাপাসিটরের মান কে ফ্যারাডে এককে প্রকাশ করা হয় ।

ক্যাপাসিটরের সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট:

১। ক্যাপাসিটর এসি কারেন্টকে শর্ট করে এবং ডিসি কারেন্টকে ব্লক করে। অর্থাত ক্যাপাসিটরের মধ্য দিয়ে এসি কারেন্ট প্রবাহিত হয় কিন্তু ডিসি প্রবাহিত হয়না।

২। ইহা বৈদ্যূতিক চার্জকে ধারণ করতে পারে।

৩। ইহা প্যাসিভ ডিভাইস অর্থাত এর গেইন সৃস্টির ক্ষমতা নেই।

৪। চার্জ সর্বদা প্লেটে সঞ্চয় হয়।

৫। ক্যাপাসিটরের মধ্য দিয়ে চার্জিং এবং ডিসচার্জিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসি (AC) কারেন্ট প্রবাহিত হয়, কখনোই ডাইইলেকট্রিক পদার্থের মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হয় না।

যে ভাবে ক্যাপাসিটর শক্তি সঞ্চয় করে রাখে:

এটি মূলত দুটি ইলেকট্রোড বা কন্ডাকটরের মাঝে ডাই ইলেকট্রিক বা ইনসুলেটর দিয়ে আলাদা করে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরী করা হয় । ক্যাপাসিটরে ভোল্টেজ অ্যাপ্লাই করা হলে ডাই-ইলেক্ট্রিকের মধ্যে একটি ইলেক্ট্রিক ফিল্ড তৈরি হয়। অর্থাৎ ডাইইলেক্ট্রিক পদার্থের দু প্রান্তে ভোল্টেজ দেয়া হলে এর ভিতরে ইলেক্ট্রন আর হোল আলাদা হয়ে গিয়ে দু ভাগে ভাগ হয়ে যায় । ইলেক্ট্রন আর হোল আলাদা হয়ে যাওয়ার ফলে ক্যাপাসিটর এর দু প্রান্তে পজিটিভ আর নেগেটিভ চার্জ জমা হয়। এভাবেই ক্যাপাসিটর শক্তি সঞ্চয় করে রাখে ।

ক্যাপাসিটর এ চার্জ জমা থাকা অবস্থায় যদি একে বর্তনী থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় তবে ক্যাপাসিটর ঐ চার্জ ধরে থাকবে, যতক্ষন না সে চার্জ ছেড়ে দেবার কোন পথ পায়। ছোট একটি উদাহরণের মাধ্যমে ক্যাপাসিটরের চার্জ হওয়া প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে-

মনে কর ক্যাপাসিটরটি হলো তোমার বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক । তুমি জল তোলার জন্য মটর ষ্টার্ট করলে (মানে তুমি ক্যাপাসিটরটিতে ভোল্টেজ প্রয়োগ করলে) । যখন জলের ট্যাঙ্কটি পানি দ্বারা পূর্ণ হয়ে যাবে (মানে তোমার ক্যাপাসিটরটি ফুল চার্জ হয়ে গেল), তখন অতিরুক্ত জল অন্য একটি পাইপ দিয়ে বের হয়ে যাবে (মানে তখন ভোল্টেজ বর্তনীর সংযোগ অনুসারে সামনের দিকে অগ্রসর হবে) । তবে ক্যাপাসিটরকে মূহুর্তের মধ্যেফুল-চার্জড করা যায় না । তেমনি হঠাৎকরে ডিসচার্জড ও করা যায় না । অর্থাৎ ক্যাপাসিটর ধীরে ধীরে ডিসচার্জড হয় ।

আমাদের পূর্বের পোস্ট গুলি পড়তে আপনি নিচের লিংক এ ক্লিক করুন:

যদি আপনার এই পোস্ট টি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন|এছাড়াও আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে কমেন্ট বক্স এ অবশ্যই জানাবেন।


Leave a Comment

Follow by Email
error: Content is protected !!